বিসিএস ( BCS Written ) লিখিত : বাংলা প্রথম পত্র (১০০) :-
বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম
Bangladesh civil service ( BCS ) Preparation 👇
বিসিএস ( BCS ) লিখিত : বাংলা প্রথম পত্র (১০০)
লিখিত মোট ৯০০ নম্বরের মধ্যে বাংলাতে বরাদ্দ ২০০। আমার মতে বিসিএস লিখিত সিলেবাসের মধ্যে সবচেয়ে সহজ সিলেবাস বাংলা (১ম) বিষয়েই, যেখানে খুব অল্প লিখেই ভালো নম্বর পাওয়া সম্ভব।
লিখিত বাংলার ব্যাকরণ পার্টে নম্বর অনেকটা ম্যাথের মতই। লিখিত পরীক্ষায় ভালো করার জন্য সিলেবাস বোঝা ও প্রশ্ন বিশ্লেষণের কোনো বিকল্প নেই। এখানে এমন অনেক প্রশ্নই আসে, যেগুলো দেখবেন ঘুরেফিরে মিলে যায়। তাই শুধু বিগত প্রশ্ন সমাধান করেই আপনি নিজেকে প্রস্তুত করে ফেলতে পারবেন। আমি বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণসহ উত্তরের প্যাটার্ন সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখার চেষ্টা করছি।
বাংলার ২০০ নম্বর ১ম ও ২য় পত্রে সমান ১০০ করে বিভাজিত।
১. বাংলা ১ম পত্র- ১০০ নম্বর
আজ আমরা বাংলা ১ম পত্রের বিষয়ে আলোচনা করবো।
বাংলা ১ম পত্রের সিলেবাসঃ
১. ব্যাকরণ অংশ (৩০)
ক. শব্দগঠন
খ. বানান/বানানের নিয়ম
গ. বাক্যশুদ্ধি/ বাক্যের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ
ঘ. প্রবাদ প্রবচনের নিহিতার্থ প্রকাশ
ঙ. বাক্যগঠন
২. ভাব সম্প্রসারণ (২০)
৩. সারমর্ম (২০)
৪. ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক প্রশ্ন (৩০)
প্রশ্নবিশ্লেষণ ও প্রস্তুতিঃ
১ নং প্রশ্নের জন্য সিলেবাসে অন্তর্ভূক্ত মোট পাঁচটি বিষয়েই প্রশ্ন হবে। প্রতিটিতে ৬ নম্বর বরাদ্দ। এখানে প্রশ্নগুলো প্রতিবার মোটামুটি একই ধাঁচের হয়ে থাকে, ফলে একবার নেয়া প্রস্তুতি আপনাকে প্রতিটি বিসিএসে সুফল এনে দিতে বাধ্য।
ক. শব্দগঠন
শব্দগঠন অংশ থেকে বিগত প্রশ্ন বিশ্লেষণে দেখা যায়, শব্দগঠন কি, বাংলা ভাষায় কি কি উপায়ে শব্দ গঠিত হয়, সেসবের উদাহরণ এবং বড়জোর শব্দ কাকে বলে, কত প্রকার ও কি কি - এই টাইপের প্রশ্ন এসেছে। আগামী বিসিএসেও তাই ধরে নেয়া যায় প্রশ্ন এরকমই হবে। ৪১তম বিসিএসে সবচেয়ে সহজ প্রশ্ন ছিল এই অংশে। ছয়টি উপসর্গ দেয়া ছিল, বলা হয়েছিলো শব্দ গঠন করতে। কোনো বাধ্যবাধকতা ছিল না। সহজে ছয়টি নম্বর পেয়ে যেতে পারেন। প্রশ্নে শব্দগঠন পদ্ধতি জানতে চাইলে ৬ মার্কের জন্য কমপক্ষে ছয়টি পদ্ধতি উদাহরণসহ লিখে আসবেন।
খ. বানান ও বানানের নিয়মঃ
এই অংশের বিগত প্রশ্নগুলো দেখবেন কখনো চেয়েছে প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম, কখনো শুধু তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে আবার কখনো শুধু অ-তৎসম শব্দের ক্ষেত্রে। প্রশ্ন বুঝে উত্তর লিখবেন। যখন তৎসম বা অ-তৎসম উল্লেখ থাকবে না, তখন যেকোনো ছয়টি লিখতে পারেন। স্পেসিফিক উল্লেখ থাকলে শুধু সেটাই লিখবেন।
রেফারেন্স বই হিসেবে বাংলা একাডেমির আধুনিক বাংলা বানানের নিয়ম নামের ৩০ টাকার একটা বই আছে, সেটা অবশ্যই পড়বেন। ৪৩-এ অ-তৎসম শব্দের বানান আসতে পারে।
গ. বাক্যশুদ্ধি/বাক্যের প্রয়োগ-অপপ্রয়োগ
কয়েকটি বাক্য দেয়া থাকবে। সবগুলো বাক্যেই কোথাও না কোথাও ভুল থাকবে। কখনো বানানে, কখনো শব্দের প্রয়োগে আবার কখনো বাক্য গঠনে। গুরুচণ্ডালী থেকে শুরু করে কাল, পুরুষ ও ক্রিয়াতেও ভুল থাকতে পারে। অনেক্ষেত্রে প্রচলিত শুদ্ধ, কিন্তু ব্যাকরণগতভাবে ভুল বাক্যগুলোও দিতে পারে। বাক্যগুলোর শুদ্ধরূপ খাতায় লিখবেন। প্রাকটিস করলে এই বিষয়টি আয়ত্ত্বে আনতে দুইদিনই যথেষ্ট!
ঘ. প্রবাদ প্রবচনের নিহিতার্থ প্রকাশ
এই প্রশ্নে ৩৮তম বিসিএসে নিহিতার্থসহ বাক্য রচনা করতে বলা হলেও ৪০-৪১ বিসিএসে শুধু বাক্য রচনা করতে বলেছিলো। দ্বিতীয়টি সহজ। সুনির্দিষ্ট অর্থ না জানলেও আমরা বাক্য রচনায় পটু। ছয়টা বাক্য লিখেই পুরো নম্বর পেতে পারেন। স্কুলেই মোটামুটি এই অংশ সবাই মুখস্ত করে এসেছেন।
ঙ. বাক্যগঠন
বাক্য-গঠন সম্পর্কিত প্রশ্ন এখানে থাকে না। থাকে বাক্য পরিবর্তনের প্রশ্ন। সরল-জটিল-যৌগিক বা অস্তি-নেতি-প্রশ্ন-বিস্ময় অথবা অনুজ্ঞা ইত্যাদি বাক্য প্রশ্নে দিয়ে সেগুলো পরিবর্তন করতে বলে। কয়েকদিনের অনুশীলনেই এটাতে দক্ষতা অর্জন সম্ভব।
উপর্যুক্ত ৫টি প্রশ্নে প্রতিটিতে ৬ নম্বর করে মোট ৩০ নম্বর বরাদ্দ। এই ৩০ নম্বরের জন্য ৩০ ঘন্টার পরিশ্রমই যথেষ্ট বলে আমার মনে হয়। এখানে নম্বর পাওয়া যায় অঙ্কের মত। অল্প লেখা, সময় বাঁচে, একেকটি বাক্য লিখেই একেকটি মার্ক তোলা সম্ভব!
তাই যারা ভালো করতে চান, তারা এখানে অবশ্যই ৩০/৩০ পাওয়ার প্রস্তুতি নিন।
বাজারের যেকোনো একটি ভালো গাইডবইসহ বাংলা একাডেমির বইটি যথেষ্ট পরিপূর্ণ প্রস্তুতির জন্য। আমি বাংলা এসিওরেন্স লিখিত বইটি পড়েছিলাম।
এই অংশ আপনি যত কম সময়ে শেষ করবেন, ভাব-সম্প্রসারণ ও সাহিত্য অংশের জন্য তত বেশি সময় বরাদ্দ করতে পারবেন। এতে আপনার ব্যাকরণ বহির্ভূত অংশেও ভালো করার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এবার দেখবো ভাব-সম্প্রসারণ ও সারাংশ সারমর্ম।
২. ভাব-সম্প্রসারণ (২০)
যেকোনো একটি ভাবের বিস্তৃতি ঘটাতে হবে এই অংশে। আমরা সেই হাইস্কুল থেকেই এসব শিখে আসছি। প্রতিবার পরীক্ষায় যা আসে তা সবারই কমন থাকে। তবে কমন থাকলে পার্থক্য তৈরি হয় একেকজনের লেখার ভঙ্গির কারণে। কেউ স্কুল-কলেজের মত সাধারণ ভাষায় লিখে আসে। সহজ - সাবলীল বাংলায় লিখে যে নম্বর আসবে, ভাষাগত মাধুর্য যদি সাহিত্যিক পরিমন্ডলে উন্নীত হয়, তবে নম্বর অবশ্যই বৃদ্ধি পাবে। এটাই স্বাভাবিক। তাই ভাব-সম্প্রসারণের সময় আপনার শব্দের ব্যবহারে, বাক্য গঠনে মনোযোগী হোন। একটু ভিন্ন আঙ্গিকে লেখার চেষ্টা করুন। লিখতে হয় বলেই লিখবেন না, আপনার লেখা অন্যদের থেকে আলাদা করার চেষ্টা করুন। ভালো নম্বর আসবে ইনশাল্লাহ। ডাটা-কোটেশন ব্যবহার করবেন না। যা বোঝাতে চেয়েছে, সেই ইশুতেই সীমাবদ্ধ থাকুন। নিজের মত করে ব্যাখ্যা দাড় করাবেন না। যে বাক্যাংশগুলো এখানে দেয়া হয় তা কোনো না কোনো সাহিত্যিক বা মনীষীর বাণী। সেসবের বিস্তারিত তাঁরা নিজেরাই লিখে বা বলে গেছেন। অথবা অন্য কেউ লিখেছেন।আপনার লেখা যেন সেসব ব্যাখ্যা থেকে খুব বেশি দূরে না যায়। গূঢ়ার্থ যেন আপনার লেখায় পরিপূর্ণভাবে ফুটে ওঠে। যারা অনেক সাহিত্য পাঠ করেছেন, তারা এক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। বেশি বাড়াবেন না। এপাশ-ওপাশের পেইজের মধ্যেই সুন্দতভাবে গুছিয়ে লিখুন।
৩. সারমর্ম (২০)
বড় গদ্যাংশ বা কবিতার সংক্ষেপকরণ। অনেক সহজে মাত্র তিন-চারটি বাক্য লিখেই পেয়ে যাবেন ভাব-সম্প্রসারণের সমান নম্বর। গদ্যাংশের ক্ষেত্রে এক-তৃতীয়াংশ মানে যা আছে তার তিন ভাগের এক ভাগ যেন হয়। কখনোই গদ্যাংশকে অতিক্রম করে যেন যায়। বাক্য তিনটি বা চারটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন। প্রয়োজনে তিন-চারবার পাঠ করুন। তিন-চারটি অংশে বিভক্ত করে নিবেন। এতে মোটামুটি সারাংশ লেখার ক্ষেত্রে সুবিধা পাবেন। যখন একদমই বুঝবেন না, তখনও এভাবেই লিখে দিয়ে আসবেন। কবিতাংশের সারমর্ম লেখার ক্ষেত্রে কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। এজন্য গদ্যাংশে ছেড়ে এদিকে নজর দিতে পারেন। কাব্যাংশের মূলভাব লিখতে আট-দশ বাক্যও ব্যবহার করতে পারেন। তবে অর্ধেক পৃষ্ঠা লেখাই উত্তম। সৌন্দর্য বজায় থাকে তাতে। আর পূর্বপঠিত কবিতা হলে তো কথাই নেই, সোনায় সোহাগা!
একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, ভাষাগত মাধুর্য যেন বজায় থাকে। সাহিত্যের ছোয়া যেন পাওয়া যায়।
4. ভাষা ও সাহিত্য বিষয়ক প্রশ্ন (৩০)
বাংলা ১ম পত্রের সবচেয়ে কঠিন অংশ এটি। আমাদের সাহিত্যবিমুখ প্রজন্মের কাছে এটি কঠিন মনে হওয়াই স্বাভাবিক। তবে যারা প্রচুর বই পড়েছেন, তারা নিশ্চিতভাবেই ভালো করবেন। যেমন ৪১ এর বল্লালী বালাই প্রশ্নটি অনেকেই অনুধাবনই করতে পারেনি। অথচ যারা পথের পাঁচালী দেখেছে বা পড়েছে তারা সহজেই বুঝতে পেরেছে। সাহিত্য পড়া না থাকলে অন্তত গাইড বইয়ে দেয়া বিষয়গুলো আত্মস্থ করুন। কম হলেও ৬-৭টি প্রশ্ন কমন পাবেন। দুয়েকটি প্রশ্ন এমন থাকতেই পারে, যা কেউ পারবে না।
বাংলা প্রাচীন সাহিত্য থেকে শুরু করে সমকালীন সাহিত্য পর্যন্ত মোট দশটি প্রশ্ন থাকে। প্রতিটির জন্য নম্বর বরাদ্দ ৩। মোটে ৩০। এই অংশের নম্বরও অনেকটা ব্যাকরণ অংশের মতই। চাইলে সহজেই ভালো নম্বর তোলা সম্ভব।
পিএসসি কর্তৃক নির্ধারিত ১১ জন সাহিত্যিক সম্পর্কিত প্রশ্নই থাকে অধিকাংশ। যাদের সাহিত্য থেকে প্রশ্ন আসাটা প্রায় নির্ধারিত, তাঁরা হলেন-
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন দত্ত, মীর মশাররফ হোসেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, দীনবন্ধু মিত্র, কাজী নজরুল ইসলাম, জসীম উদ্দীন, ফররুখ আহমদ, কায়কোবাদ ও বেগম রোকেয়া। এদের ব্যক্তিগত সমস্ত তথ্যাদিসহ তাদের সব সাহিত্য, সম্ভব হলে নামকরা কিছু সাহিত্যিক চরিত্র সম্পর্কিত প্রশ্নগুলোও পড়ে ফেলুন।
এর বাইরে চর্যাপদ, চর্যার ভাষা ও চর্যাগানে জন-জীবন ও সমাজরেখা, শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, বৈষ্ণব পদাবলী ও জীবনী সাহিত্য, মঙ্গলকাব্য, রোমান্টিক প্রণয়োপাখ্যান, মধ্যযুগের অনুবাদ সাহিত্য ও আরাকান রাজসভা, পঞ্চপাণ্ডব, কল্লোল যুগ, আধুনিক নামকরা সাহিত্যিক ও সর্বজন পঠিত বইগুলো অর্থাৎ সুপরিচিত গ্রন্থ সম্পর্কিত প্রশ্নগুলো অবশ্যই পড়বেন।
সর্বোপরি, লিখিত পরীক্ষায় সাহিত্য অংশে ভালো করতে ১০ম বিসিএস থেকে ৪১তম বিসিএস পর্যন্ত বাংলা সাহিত্য থেকে আসা সবগুলো প্রশ্নে একবার হলেও চোখ বুলান। দশটির মধ্যে ৬-৭টি নিশ্চিতভাবে কমন পাবেন। দুয়েকটি এদিক সেদিন প্রশ্ন থাকলেও পারবেন। তাই আগের প্রশ্নগুলো অবশ্যই পড়ুন।
সাহিত্যে উত্তর করবেন প্রশ্নানুযায়ী। তবে হাফ পেইজ থেকে এক পেইজে শেষ করা উচিত। কারণ নম্বর বরাদ্দ মাত্র ৩। খুব বেশি লিখে লাভ নাই। আবার উত্তর কখনো কখনো দুই-তিন লাইনেও শেষ হয়ে যায়। যেমন শওকত ওসমানের তিনটি উপন্যাসের নাম লিখতে বললে কতটুকু লিখবেন?
জাস্ট তিনটা নাম লিখে দিলেই হয়ে যায়। আবার বড় প্রশ্নের ক্ষেত্রে চাহিদা মোতাবেক লিখবেন। তবে অযথা বাড়াবেন না। টু দি পয়েন্ট উত্তর করুন।
বাজারের গাইড বই হিসেবে শুধু এসিওরেন্সই যথেষ্ট। তবে আপনি চাইলে ওরাকল বা প্রফেসরসও পড়তে পারেন। কি পড়বেন সেটা মুখ্য না, কি লিখবেন সেটাই নির্ধারণ করবে আপনার ভবিষ্যৎ!
তাই কোন বই পড়ছেন, সেটা নিয়ে বিচলিত হবেন না। সৌন্দর্যমণ্ডিত উপস্থাপনই মুখ্য।
শুভকামনা সবার জন্য 💓
কোন ভুল হলে ক্ষমা দৃষ্টিতে দেখবেন এবং সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন |
sakib
👉👉ক্লিক হেয়ার বাংলা ইংলিশ সাধারন জ্ঞান সাজেশন

কোন মন্তব্য নেই